জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচি ও ভাড়া সম্পর্কে আপনি জানেন কী? যদি না জেনে থাকেন তাহলে সমস্যা নেই কারন আজকের এই আর্টিকেলে আপনি বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের নতুন একটি ট্রেনের মধ্যে অন্যতম একটি নাম হলো জাহানাবাদ এক্সপ্রেস।

যারা ঢাকা থেকে খুলনা কিংবা খুলনা থেকে ঢাকা রুটে দ্রুত ও আরামদায়ক ভ্রমণ করতে চান তাদের জন্য প্রথম পছন্দ হতে পারে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনটি। আজকের এই আর্টিকেলে আজ আমরা জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ সালে জানানোর পাশাপাশি টিকিটের দাম ও কোন কোন স্টেশনে ট্রেনটি যাত্রাবিরতি দেয় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। তাহলে দেরি কেন চলুন আলোচনাটি শুরু করা যাক।
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচিতি ও রুট
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস (ট্রেন কোড ৮২৫/৮২৬) মূলত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু হয়ে রাজধানী ঢাকার সাথে খুলনার সংযোগ স্থাপনকারী একটি আধুনিক আন্তঃনগর ট্রেন। জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনটি গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু করে। ট্রেনটি অত্যন্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন ও যাত্রীদের দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম।
খুলনা থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে খুলনা পর্যন্ত রুটে ট্রেনটি নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামে। এসকল স্থানের মধ্যে রয়েছে নড়াইল, লোহাগড়া (লক্ষীপাশা) ও ভাঙ্গা অঞ্চলের মানুষের জন্য এই ট্রেনটি এক আর্শীবাদ স্বরূপ। এবার তাহলে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচি জেনে নেওয়া যাক।
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
ভ্রমণের আগে ট্রেনের সঠিক সময় জেনে নেওয়া সবচেয়ে জরুরি। জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। নিচে খুলনা থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে খুলনা অভিমুখে ট্রেনের সময়সূচী বিস্তারিত আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে করা হলো:
খুলনা থেকে ঢাকা (ট্রেন নম্বর ৮২৫)
| ট্রেন নম্বর | ৮২৫ |
| খুলনা থেকে প্রস্থান | সকাল ০৬:০০ |
| ঢাকা পৌঁছানো | সকাল ০৯:৪৫ |
| মোট ভ্রমণের সময় | ৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট |
| সাপ্তাহিক ছুটি | সোমবার |
ঢাকা থেকে খুলনা (ট্রেন নম্বর ৮২৬)
| ট্রেন নম্বর | ৮২৬ |
| ঢাকা থেকে প্রস্থান | রাত ০৮:০০ |
| খুলনা পৌঁছানো | রাত ১১:৪৫ |
| মোট ভ্রমণের সময় | ৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট |
| সাপ্তাহিক ছুটি | সোমবার |
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের বিরতি স্টেশন বা স্টপেজ
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনটি সরাসরি সব স্টেশনে থামে না। জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনটি শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। আপনি যদি মাঝপথের কোনো স্টেশনের যাত্রী হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই নিচের তালিকাটি দেখে নিন:
খুলনা থেকে ঢাকা রুটের স্টপেজ তালিকা
খুলনা থেকে ছেড়ে গিয়ে ট্রেনটি যে সকল স্টেশনে থামে ও পৌঁছানোর সময় নিচে দেওয়া হলো:
| স্টেশন নাম | পৌঁছানোর সময় | ছাড়ার সময় |
| খুলনা (Khulna) | প্রারম্ভিক স্টেশন | সকাল ০৬:০০ |
| নোয়াপাড়া (Noapara) | সকাল ০৬:৩৩ | সকাল ০৬:৩৬ |
| সিঙ্গিয়া (Singia) | সকাল ০৬:৫১ | সকাল ০৬:৫৩ |
| নড়াইল (Narail) | সকাল ০৭:১৩ | সকাল ০৭:১৬ |
| লোহাগড়া (Lohagora) | সকাল ০৭:২৯ | সকাল ০৭:৩১ |
| কাশিয়ানী (Kashiani) | সকাল ০৭:৪১ | সকাল ০৭:৪৪ |
| ভাঙ্গা জংশন (Bhanga Junction) | সকাল ০৮:১৩ | সকাল ০৮:১৬ |
| ঢাকা (Dhaka) | সকাল ০৯:৪৫ | গন্তব্য শেষ |
ঢাকা থেকে খুলনা রুটের স্টপেজ তালিকা
ঢাকা থেকে ফেরার পথে ট্রেনটি যে সব স্টেশনে থামে:
| স্টেশন নাম | পৌঁছানোর সময় | ছাড়ার সময় |
| ঢাকা (Dhaka) | প্রারম্ভিক স্টেশন | রাত ০৮:০০ |
| ভাঙ্গা জংশন (Bhanga Junction) | রাত ০৯:০৩ | রাত ০৯:০৬ |
| কাশিয়ানী (Kashiani) | রাত ০৯:৩৪ | রাত ০৯:৩৭ |
| লোহাগড়া (Lohagora) | রাত ০৯:৪৮ | রাত ০৯:৫০ |
| নড়াইল (Narail) | রাত ১০:০৩ | রাত ১০:০৬ |
| সিঙ্গিয়া (Singia) | রাত ১০:৩৪ | রাত ১০:৪০ |
| নোয়াপাড়া (Noapara) | রাত ১০:৫৪ | রাত ১০:৫৬ |
| খুলনা (Khulna) | রাত ১১:৪৫ | গন্তব্য শেষ |
জেনে নিনঃ মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিটের মূল্য
ট্রেনের টিকিটের দাম নির্ভর করে আপনার নির্বাচিত আসনের ওপর। জাহানাবাদ এক্সপ্রেসে মূলত ৩ ধরনের সিট বা কোচ রয়েছে। আপনার বাজেট ও সুবিধা অনুযায়ী আপনি টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন। ২০২৬ সালের বর্তমান ভাড়ার তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| সিট ক্যাটাগরি (Class) | ভাড়ার পরিমাণ (৳) |
| এসি বার্থ (AC_S) | ১০১৮ টাকা |
| স্নিগ্ধা (SNIGDHA) | ৮৫১ টাকা |
| শোভন চেয়ার (S_CHAIR) | ৪৪৫ টাকা |
দ্রষ্টব্য: রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় ভাড়ার হার পরিবর্তন করতে পারে। অনলাইন বা রেলওয়ে কাউন্টার থেকে সঠিক ভাড়া নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটির দিন
যেকোনো ট্রেন ভ্রমণের আগে তার অফ ডে বা ছুটির দিন জানা থাকা অত্যন্ত আবশ্যক। জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন হলো সোমবার। সপ্তাহের বাকি ৬ দিন এই ট্রেনটি নিয়মিত ঢাকা-খুলনা রুটে চলাচল করে। সোমবার ট্রেনটি মেইনটেন্যান্স বা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়।
কিভাবে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কাটবেন?
আপনি দুইভাবে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন:
- রেলওয়ে কাউন্টার: আপনি যে স্টেশনে আছেন সেই স্টেশনের টিকিট কাউন্টার থেকে সরাসরি টাকা জমা দিয়ে টিকিট কাটতে পারেন।
- অনলাইন টিকেট: বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) অথবা ‘Rail Sheba’ অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজে ঘরে বসে টিকিট বুকিং করা যায়। যাত্রার ১০ দিন পূর্ব থেকে অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করা সম্ভব।
যাত্রীদের জন্য বিশেষ কিছু টিপস
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে যাএাকালে অবশ্যই বেশ কিছু দিকে নজর রাখা উচিত। এক্ষেত্রে আমরা নিন্মে বেশ কিছু টিপস প্রদান করেছি:
- ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
- ভ্রমণের দিন ট্রেনের অবস্থান জানতে মোবাইলে ট্রেনের নাম লিখে ১৬৩১৮ নাম্বারে এসএমএস করতে পারেন।
- অনুমোদিত ওজনের বেশি মালামাল সাথে না রাখাই ভালো।
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস নিয়ে কিছু প্রশ্ন
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে কখন ছাড়ে?
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস (৮২৬) ঢাকা থেকে রাত ০৮:০০ মিনিটে খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
জাহানাবাদ এক্সপ্রেসের রুট কী?
এটি ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা, লোহাগড়া, নড়াইল ও নোয়াপাড়া হয়ে খুলনা পর্যন্ত চলাচল করে।
ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ কবে?
এই ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন সোমবার।
শোভন চেয়ারের ভাড়া কত?
ঢাকা থেকে খুলনা পর্যন্ত জাহানাবাদ এক্সপ্রেসের শোভন চেয়ারের ভাড়া ৪৪৫ টাকা।
শেষ কথা
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ঢাকা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য একটি দ্রুতগতির যোগাযোগের মাধ্যম। বিশেষ করে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে এই যাত্রাটি আপনার সময় বাঁচানোর পাশাপাশি এক চমৎকার অভিজ্ঞতা দেবে।
আমরা চেষ্টা করেছি জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ সালে জানানোর পাশাপাশিটিকেট প্রাইস ও স্টপেজ সম্পর্কে একদম সঠিক তথ্য আপনার সামনে তুলে ধরতে। আপনার ভ্রমণ নিরাপদ ও আনন্দদায়ক হোক এই শুভকামনা রইলো। ট্রেন সংক্রান্ত আরও কোনো তথ্য জানতে চাইলে আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন।
